
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে নগরীর জয়দেবপুর বাজার রেলগেট থেকে রাজবাড়ী রোড পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, রাজবাড়ী রোডের ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে কোনো দোকানপাট বসানো কিংবা গাড়ি পার্কিং করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজীপুর শহরকে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্ছেদ করা এলাকা নিয়মিত তদারকি করে দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন। কেউ নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় ফুটপাত দখল করলে পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে আবার দখল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার রক্ষায় সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত নজরদারি করবে। ব্যবসায়ী ও হকারদেরও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আল মামুন বলেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দুই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি জানান, উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেন। এর আগেও একই এলাকায় কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও হকাররা ফুটপাত দখল করে নেন। এতে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। ফলে ব্যস্ত সড়কে যানজটের পাশাপাশি বাড়ে জনদুর্ভোগ।
নগরবাসীর দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি উচ্ছেদের পর নিয়মিত নজরদারি, দখলকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনানুগ ব্যবস্থা এবং হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব। শুধু অভিযান পরিচালনা করে পুনরায় দখলের সুযোগ তৈরি হলে সরকারি অর্থ ও জনবল ব্যয় করে পরিচালিত অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জয়দেবপুর বাজার ও রাজবাড়ী রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত স্থায়ীভাবে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা গেলে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপ ও যানজটও অনেকটা কমবে।
অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আল মামুন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, অঞ্চল- ৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, সদর মেট্রো থানার ওসি আমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন, বিএনপি নেতা মোস্তফা নীনা, বাপ্পী দেসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব সংবাদ : 



















