ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত, সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন Logo খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে তিনতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর করেন অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এমপি Logo গাজীপুরে দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo গাজীপুর সিটিজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক Logo গাজীপুরে সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ- ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, প্রেমিকের হাতে খুন Logo সালনা-দেশীপাড়া-জয়দেবপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ, দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, বড় বড় গর্তে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা সভা: অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান প্রতিমন্ত্রী Logo আনন্দঘন পরিবেশে দৈনিক বাংলাভূমির বার্ষিক নৌকা ভ্রমণ অনুষ্ঠিত Logo দলকে শক্তিশালী করতে কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো জিএমপি সদর থানা , কঙ্কাল উদ্ধার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জিএমপি সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছা. কাকলী বেগম সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরিটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্ত করতে গিয়ে সৌরভের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বেশ কিছু রহস্যজনক তথ্য পান।

পরে সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তার পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়ার পর তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, নিহত সৌরভ ছিলেন গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রবিউল ক্ষুব্ধ হন। সেই ক্ষোভ থেকেই সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত, সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন

error: Content is protected !!

নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো জিএমপি সদর থানা , কঙ্কাল উদ্ধার

আপডেট সময় ০২:১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জিএমপি সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছা. কাকলী বেগম সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরিটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্ত করতে গিয়ে সৌরভের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বেশ কিছু রহস্যজনক তথ্য পান।

পরে সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তার পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়ার পর তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, নিহত সৌরভ ছিলেন গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রবিউল ক্ষুব্ধ হন। সেই ক্ষোভ থেকেই সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।