
বিশেষ প্রতিনিধি: ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে একযোগে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মহানগরীর শ্মশানঘাট, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চিলাই বিলের পাড় এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিএনসিসি, স্বেচ্ছাসেবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।
শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কেন্দ্রীয় উদ্বোধনের পর ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে গাজীপুরেও কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে মহানগরীর শ্মশানঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, সিভিল সার্জন মামুনুর রশিদ, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিএনসিসি, স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার ও জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন। তাঁদের নেতৃত্বে রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড়সহ আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার আনাচে-কানাচে জমে থাকা সমস্ত বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ড ও ৮টি জোনে কার্যক্রম চলছে। এডিস মশা কোথায় ও কীভাবে জন্মায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি লার্ভা নিধনে স্প্রে ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সবার অংশগ্রহণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, শুধু মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই হবে না, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। জিএমপির সব ইউনিট এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য গাজীপুর গড়তে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজস্ব সংবাদ : 


















