ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক Logo শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে ডাক্তার-আনসারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত, সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন Logo খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে তিনতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর করেন অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এমপি Logo গাজীপুরে দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo গাজীপুর সিটিজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক Logo গাজীপুরে সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ- ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, প্রেমিকের হাতে খুন Logo সালনা-দেশীপাড়া-জয়দেবপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ, দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, বড় বড় গর্তে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা সভা: অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান প্রতিমন্ত্রী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক

error: Content is protected !!

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট সময় ০৮:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’