
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর ভাঙিয়ে অর্থ স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরো উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি অর্থকে অধিক নিরাপদ ও লাভজনক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআরগুলোর একটি অংশে সুদের হার তুলনামূলক কমে যায় এবং কিছু ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান আগের মতো স্থিতিশীল ছিল না। এ পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই অর্থ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত হিসাবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংকিং ডকুমেন্টের মাধ্যমেই সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থের এক টাকাও ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং পুরো অর্থ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
সিইও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করা। যেসব ব্যাংকে সুদের হার কম ছিল বা ঝুঁকির শঙ্কা ছিল, সেখান থেকে অর্থ আরও আধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত লাভ বা স্বার্থের কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি অর্থের নিরাপত্তা ও লাভজনক বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। আর্থিক খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতায় অধিক মুনাফা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের একাধিক সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা দূর হবে। বরং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও আয় বৃদ্ধির চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
নিজস্ব সংবাদ : 










