ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo “পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে পিতাকে দিয়ে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে বেকসুর খালাস ডাঃ এফ রহমান” Logo পরিচ্ছন্ন গাজীপুর গড়তে বর্জ্য অপসারনে রাজেন্দ্রপুরে এসটিএস উদ্বোধন করলেন প্রশাসক শওকত হোসেন Logo গাজীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ Logo উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে প্রশাসক শওকত হোসেন, জয়দেবপুরে যানজট নিরসনে ৩১৭ কোটি টাকার ওভারপাস নির্মাণ Logo জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য পদ পেলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া Logo সাহসিক অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার: পুরস্কৃত জিএমপির সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ও তার টিম Logo গাজীপুরে বাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo পোষা প্রাণীর চিকিৎসায় গাজীপুরে নতুন দিগন্ত, উদ্বোধন হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’ Logo গাজীপুরে রোটারী ক্লাব অব ভাওয়াল হেরিটেজের ৪র্থ অভিষেক ও রিপসা টিমের ক্লাব ভিজিট সম্পন্ন Logo গাছা থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক সড়ক উদ্বোধন করেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

ফোন নিবন্ধনে আতঙ্ক নয়, মিলছে তিন মাস সময়—বিটিআরসি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৫০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩০৮ বার পড়া হয়েছে

নতুন বছরের শুরু থেকে মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কার্যকর হলেও গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে না। ১ জানুয়ারির পর যেকোনো নতুন মোবাইল ফোন প্রথমবার চালু করলে ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। এ সময় ফোনটি ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, প্রবাসী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ এড়াতে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক জানান, মোবাইল ফোন নিবন্ধনের নতুন নিয়ম ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে এর আগেই যেসব হ্যান্ডসেট দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, অপারেটরদের পাঠানো তালিকা থেকে খুব অল্পসংখ্যক হ্যান্ডসেট বাদ পড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর সমাধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত মোট সাতটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমিনুল হক জানান, ১ জানুয়ারির পর এমন কোনো ফোন চালু করা হলে, যেটি আগে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়নি, সেটি নিবন্ধনের আওতায় আসবে। ফোনটি যদি বৈধভাবে আমদানি করা হয়ে থাকে বা পূর্বে বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আনা কিন্তু আগে ব্যবহার না করা ফোন কিংবা প্রবাসীরা দেশে এসে নতুন করে ফোন চালু করলে সেক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের দিন থেকে ৯০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে ফোন নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি জানান, কেউ যদি দুই মাসের জন্য দেশে এসে ফোন ব্যবহার করে আবার বিদেশে ফিরে যান, তাহলে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে তিন মাসের বেশি সময় দেশে অবস্থান করলে ইমিগ্রেশনের সিলসহ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে ফোন নিবন্ধন করতে হবে।

একইভাবে, কোনো সাধারণ নাগরিক বৈধভাবে বিদেশ থেকে একটি ফোন আনলে সেটিও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। বিটিআরসির ডাটাবেজে যাচাই করে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একাধিক ফোন এনেছেন কি না। শর্ত পূরণ হলে নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফোন নিবন্ধনের জন্য তিনটি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। প্রথমত, সরকারের সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এখানে ফোন নিবন্ধনের পাশাপাশি চুরি বা হারানো ফোন ব্লক ও আনব্লক, বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা পড়ার পর বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট টিম প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে।

দ্বিতীয়ত, বিটিআরসির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে। যারা অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম, তাদের সমস্যা বুঝে হেল্পলাইনের মাধ্যমে আবেদন কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পাঠানো হবে।

তৃতীয়ত, মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এ বিষয়ে অপারেটরদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হওয়ায় শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই তিন মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধান করা যায়।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কিছু সিম বন্ধ হওয়ার অভিযোগ এসেছে। এর পেছনে কারণ হলো— ৩১ ডিসেম্বর একই সঙ্গে দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে: নতুন ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে সেগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়া। একসঙ্গে এই দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো আনঅফিশিয়াল ফোন আর দেশের নেটওয়ার্কে সক্রিয় হতে পারবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে পিতাকে দিয়ে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে বেকসুর খালাস ডাঃ এফ রহমান”

error: Content is protected !!

ফোন নিবন্ধনে আতঙ্ক নয়, মিলছে তিন মাস সময়—বিটিআরসি

আপডেট সময় ০২:৫০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরু থেকে মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কার্যকর হলেও গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে না। ১ জানুয়ারির পর যেকোনো নতুন মোবাইল ফোন প্রথমবার চালু করলে ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। এ সময় ফোনটি ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, প্রবাসী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ এড়াতে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক জানান, মোবাইল ফোন নিবন্ধনের নতুন নিয়ম ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে এর আগেই যেসব হ্যান্ডসেট দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, অপারেটরদের পাঠানো তালিকা থেকে খুব অল্পসংখ্যক হ্যান্ডসেট বাদ পড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর সমাধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত মোট সাতটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমিনুল হক জানান, ১ জানুয়ারির পর এমন কোনো ফোন চালু করা হলে, যেটি আগে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়নি, সেটি নিবন্ধনের আওতায় আসবে। ফোনটি যদি বৈধভাবে আমদানি করা হয়ে থাকে বা পূর্বে বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আনা কিন্তু আগে ব্যবহার না করা ফোন কিংবা প্রবাসীরা দেশে এসে নতুন করে ফোন চালু করলে সেক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের দিন থেকে ৯০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে ফোন নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি জানান, কেউ যদি দুই মাসের জন্য দেশে এসে ফোন ব্যবহার করে আবার বিদেশে ফিরে যান, তাহলে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে তিন মাসের বেশি সময় দেশে অবস্থান করলে ইমিগ্রেশনের সিলসহ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে ফোন নিবন্ধন করতে হবে।

একইভাবে, কোনো সাধারণ নাগরিক বৈধভাবে বিদেশ থেকে একটি ফোন আনলে সেটিও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। বিটিআরসির ডাটাবেজে যাচাই করে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একাধিক ফোন এনেছেন কি না। শর্ত পূরণ হলে নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফোন নিবন্ধনের জন্য তিনটি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। প্রথমত, সরকারের সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এখানে ফোন নিবন্ধনের পাশাপাশি চুরি বা হারানো ফোন ব্লক ও আনব্লক, বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা পড়ার পর বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট টিম প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে।

দ্বিতীয়ত, বিটিআরসির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে। যারা অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম, তাদের সমস্যা বুঝে হেল্পলাইনের মাধ্যমে আবেদন কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পাঠানো হবে।

তৃতীয়ত, মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এ বিষয়ে অপারেটরদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হওয়ায় শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই তিন মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধান করা যায়।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কিছু সিম বন্ধ হওয়ার অভিযোগ এসেছে। এর পেছনে কারণ হলো— ৩১ ডিসেম্বর একই সঙ্গে দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে: নতুন ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে সেগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়া। একসঙ্গে এই দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো আনঅফিশিয়াল ফোন আর দেশের নেটওয়ার্কে সক্রিয় হতে পারবে না।