ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo “পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে পিতাকে দিয়ে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে বেকসুর খালাস ডাঃ এফ রহমান” Logo পরিচ্ছন্ন গাজীপুর গড়তে বর্জ্য অপসারনে রাজেন্দ্রপুরে এসটিএস উদ্বোধন করলেন প্রশাসক শওকত হোসেন Logo গাজীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ Logo উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে প্রশাসক শওকত হোসেন, জয়দেবপুরে যানজট নিরসনে ৩১৭ কোটি টাকার ওভারপাস নির্মাণ Logo জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য পদ পেলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া Logo সাহসিক অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার: পুরস্কৃত জিএমপির সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ও তার টিম Logo গাজীপুরে বাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo পোষা প্রাণীর চিকিৎসায় গাজীপুরে নতুন দিগন্ত, উদ্বোধন হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’ Logo গাজীপুরে রোটারী ক্লাব অব ভাওয়াল হেরিটেজের ৪র্থ অভিষেক ও রিপসা টিমের ক্লাব ভিজিট সম্পন্ন Logo গাছা থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক সড়ক উদ্বোধন করেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

গাজীপুরে বাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নুরু খানের অভিযোগের পুলিশি অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা মেলেনি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

আক্তার হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান, নূরে আলম খান রতন ও মঞ্জুর আলী মেম্বারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত, সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই শেষে পুলিশের প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নুরু খান পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, অভিযুক্তরা রোশাদিয়া ও চিননী এলাকার সরকারি/ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাছ চাষ করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন তিনি। সদর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ একেএম জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে রোশাদিয়া ও চিননী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারী নুরু খান তার দাবিকৃত জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একইসঙ্গে নূরে আলম খান রতনের বিরুদ্ধে সিডিএমএস ডাটাবেজেও কোনো মামলা বা রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঞ্জুর আলী মেম্বারের বিরুদ্ধে টিসিবির চাল আত্মসাতের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধেও আনা অভিযোগের সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিপি রানী সিনহা বলেন, অভিযোগকারী নুরু খানের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত, সাক্ষ্য ও দালিলিক যাচাইয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই অনুমোদিত গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বাড়ীয়া ইউনিয়ন শাখার কমিটির নথিপত্র পর্যালোচনায় নুরু মোহাম্মদ (নুরু) খানের নাম সদস্য হিসেবে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার ছবি ও ব্যানার প্রচারিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেছেন, নুরু খান অতীতে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে নুরু খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে পিতাকে দিয়ে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে বেকসুর খালাস ডাঃ এফ রহমান”

error: Content is protected !!

গাজীপুরে বাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নুরু খানের অভিযোগের পুলিশি অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা মেলেনি

আপডেট সময় ০৬:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আক্তার হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান, নূরে আলম খান রতন ও মঞ্জুর আলী মেম্বারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত, সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই শেষে পুলিশের প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নুরু খান পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, অভিযুক্তরা রোশাদিয়া ও চিননী এলাকার সরকারি/ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাছ চাষ করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন তিনি। সদর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ একেএম জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে রোশাদিয়া ও চিননী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারী নুরু খান তার দাবিকৃত জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একইসঙ্গে নূরে আলম খান রতনের বিরুদ্ধে সিডিএমএস ডাটাবেজেও কোনো মামলা বা রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঞ্জুর আলী মেম্বারের বিরুদ্ধে টিসিবির চাল আত্মসাতের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধেও আনা অভিযোগের সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিপি রানী সিনহা বলেন, অভিযোগকারী নুরু খানের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত, সাক্ষ্য ও দালিলিক যাচাইয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই অনুমোদিত গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বাড়ীয়া ইউনিয়ন শাখার কমিটির নথিপত্র পর্যালোচনায় নুরু মোহাম্মদ (নুরু) খানের নাম সদস্য হিসেবে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার ছবি ও ব্যানার প্রচারিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেছেন, নুরু খান অতীতে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে নুরু খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।