ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক অনুপস্থিতি, ছুটির অসংগতি নিয়ে মন্ত্রীর অসন্তোষ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, ছুটির অনুমোদনের অসংগতি এবং হাসপাতালের সেবাব্যবস্থার নানা ঘাটতির প্রমাণ পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ প্রটোকলসহ একটি সাদা গাড়িতে করে হঠাৎ করেই তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। প্রতিদিনের মতো হাসপাতালের কার্যক্রম চলছিল এমন সময় মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনে সেখানে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়।

হাসপাতালে প্রবেশ করেই তিনি কর্তব্যরতদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় কোথায় জানতে চান। পরে ওই কক্ষে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত দেখতে পান। এ বিষয়ে উপস্থিতদের কাছে জানতে চাইলে কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন।

এ সময় মন্ত্রী ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে একটি স্ক্যান করা কপি দেখানো হয়। তবে তাতে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এরপর তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিয়ে কনফারেন্স রুমে বসে উপস্থিতি যাচাই করেন। এতে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যাদের কারও ছুটির আবেদনও পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে এসে পৌঁছান। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। পরে তাদের কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এর কিছুক্ষণ পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদও হাসপাতালে এসে পৌঁছান। মন্ত্রী তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় ছুটিতে ছিলেন। তবে অনুমোদিত ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তিনি কেবল আবেদনের একটি কপি দেখাতে পারেন, যাতে সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এছাড়া আবেদনে অসুস্থতার পরিবর্তে পারিবারিক সমস্যার কারণে ছুটিতে থাকার কথা উল্লেখ ছিল। এ সময় তিনি মন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা ও সেবার খোঁজখবর নেন। এ সময় ওয়ার্ডগুলোর ওয়াশরুমে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন এসব ব্যবস্থা রাখা হয়নি—এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।

এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। রোগীরা চিকিৎসা সেবার বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী সেসব অভিযোগ নোট করে নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াও শোনেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের ফার্মেসিও ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম ঘোষণা দিয়ে পরিদর্শন করা হবে না। আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমেই হাসপাতালগুলোর প্রকৃত সেবার চিত্র জানা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

error: Content is protected !!

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক অনুপস্থিতি, ছুটির অসংগতি নিয়ে মন্ত্রীর অসন্তোষ

আপডেট সময় ১১:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, ছুটির অনুমোদনের অসংগতি এবং হাসপাতালের সেবাব্যবস্থার নানা ঘাটতির প্রমাণ পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ প্রটোকলসহ একটি সাদা গাড়িতে করে হঠাৎ করেই তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। প্রতিদিনের মতো হাসপাতালের কার্যক্রম চলছিল এমন সময় মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনে সেখানে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়।

হাসপাতালে প্রবেশ করেই তিনি কর্তব্যরতদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় কোথায় জানতে চান। পরে ওই কক্ষে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত দেখতে পান। এ বিষয়ে উপস্থিতদের কাছে জানতে চাইলে কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন।

এ সময় মন্ত্রী ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে একটি স্ক্যান করা কপি দেখানো হয়। তবে তাতে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এরপর তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিয়ে কনফারেন্স রুমে বসে উপস্থিতি যাচাই করেন। এতে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যাদের কারও ছুটির আবেদনও পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে এসে পৌঁছান। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। পরে তাদের কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এর কিছুক্ষণ পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদও হাসপাতালে এসে পৌঁছান। মন্ত্রী তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় ছুটিতে ছিলেন। তবে অনুমোদিত ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তিনি কেবল আবেদনের একটি কপি দেখাতে পারেন, যাতে সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এছাড়া আবেদনে অসুস্থতার পরিবর্তে পারিবারিক সমস্যার কারণে ছুটিতে থাকার কথা উল্লেখ ছিল। এ সময় তিনি মন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা ও সেবার খোঁজখবর নেন। এ সময় ওয়ার্ডগুলোর ওয়াশরুমে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন এসব ব্যবস্থা রাখা হয়নি—এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।

এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। রোগীরা চিকিৎসা সেবার বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী সেসব অভিযোগ নোট করে নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াও শোনেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের ফার্মেসিও ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম ঘোষণা দিয়ে পরিদর্শন করা হবে না। আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমেই হাসপাতালগুলোর প্রকৃত সেবার চিত্র জানা সম্ভব হবে।