
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ভাগে এসে গাজীপুরের টঙ্গীতে বড় ধরনের জনসমাগমের মধ্য দিয়ে শক্ত উপস্থিতি জানান দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর–২ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নেতৃত্বে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় একটি দীর্ঘ গণমিছিল।
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী আশরাফ সেতু এলাকার বাটা রোড থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শহরের প্রধান সড়ক অতিক্রম করে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশ ঘুরে জয়দেবপুর চৌরাস্তার দিকে অগ্রসর হয়। প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মিছিলে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
গণমিছিলে প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন। এতে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্যে রনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়মের আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রনি আরও বলেন, গাজীপুরের মানুষ এবার ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রায় দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বক্তব্যে তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি শিল্পনগরী গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন, যানজট নিরসনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, টঙ্গীতে এ ধরনের বড় পরিসরের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই হয়েছে। তাঁদের মতে, এই গণমিছিল নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকা হওয়ায় গাজীপুর–২ আসন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা তীব্র হতে পারে, তারই একটি বার্তা দিচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদ : 


















