
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিকভাবে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সামগ্রী সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দলে দলে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুরে পোস্টাল ভোটের ৫টিসহ মোট ৯৪০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পোস্টাল ভোট কেন্দ্র বাদে ৯৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪৪টি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং ৩৯১টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রের বাইরে থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্সও মাঠে সক্রিয় থাকবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪ হাজার ৬৪৬ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ১ হাজার ২০০ জন সেনা সদস্য এবং প্রায় ৩০০ জন বিজিবি ও র্যাব সদস্যসহ মোট প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে রয়েছেন। আনসার সদস্যদের হাতে থাকবে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’, আর পুলিশ সদস্যরা ব্যবহার করবেন বডি-অন ক্যামেরা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হবে।
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মিলনায়তন ও প্রতিটি উপজেলা কার্যালয়ে সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে কাজ করছেন ৩৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৫টি জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি টিম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে ৪৪০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিজস্ব সংবাদ : 


















