
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তাদের হানি ট্র্যাপে ফেলার অভিযোগে তানজিলা তাবাসসুম (২৪) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তানজিলার অন্য নাম সুইটি ও হ্যাপী।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তানজিলা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার পয়সা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত রুবেল মিয়ার মেয়ে। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা এলাকা ছাড়াও ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে আইনি সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে তাদের হানি ট্র্যাপে ফেলে সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাতেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন ইউনিট ও গাজীপুর পুলিশ সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে।
জিএমপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযুক্ত চক্রের লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং চেইন অব কমান্ডে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানজিলার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর তানজিলা তাবাসসুমকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ আরও জানায়, হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার সামাজিক বা পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। সে কারণেই দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
জিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনার সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
নিজস্ব সংবাদ : 

















