
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে দেশের রাজনীতিতে সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে—কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা চাপ মেনে নেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের ঢল নামে। অনেকে আগের রাত থেকেই সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন।
কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জমায়েত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ভোটারদের ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো ব্যালট ব্যবস্থায় কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের বিষয়; ভয় দেখানো কিংবা জান্নাত-জাহান্নামের লোভ দেখিয়ে রাজনীতি করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার—কোনো রাজনৈতিক দলের নয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল ও জীবনের নিশ্চয়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।
ভোটের দিন জনগণকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট চুরি ও কারচুপির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে।
সমাবেশে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব সংবাদ : 
















