
দেশজুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ রেক্টিফাইড স্পিরিট জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহীন মাহমুদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে পূবাইল থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কুদাব এলাকায় অবস্থিত ‘সেবা হোমিও ল্যাবরেটরি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরি ও গুদাম থেকে ড্রাম ও বোতলজাত মোট ২ হাজার ২৭৮ দশমিক ৬২ লিটার অবৈধ রেক্টিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী মো. জাহিদুল ইসলাম (৩৬) ও কথিত হোমিও চিকিৎসক মো. সাদিকুজ্জামান (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাই শেষে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. ইসমাইল হাসেন (৫৬)-কে প্রধান পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে।
শাহীন মাহমুদ বলেন, রংপুরে বিষাক্ত মদপানে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে ডিএনসির গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই অংশ হিসেবে হোমিও চিকিৎসকের ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে বোতলজাত রেক্টিফাইড স্পিরিট কিনতে গিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে রেক্টিফাইড স্পিরিট উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছিলেন। জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে এমন অবৈধ মাদক ও স্পিরিটের বিরুদ্ধে ডিএনসি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বাদী হয়ে পূবাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
নিজস্ব সংবাদ : 



















