ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সার সংকটের কারণ ও করণীয় নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ Logo গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক Logo শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে ডাক্তার-আনসারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত, সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন Logo খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে তিনতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর করেন অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এমপি Logo গাজীপুরে দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo গাজীপুর সিটিজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক Logo গাজীপুরে সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ- ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, প্রেমিকের হাতে খুন Logo সালনা-দেশীপাড়া-জয়দেবপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ, দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, বড় বড় গর্তে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

হরিজন সম্প্রদায়ের মা-হারা এতিম কনের বিয়েতে গাজীপুর ডিসি, মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৩০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক মা-হারা এতিম কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। অনেকেই খুশিতে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রণাম করতে থাকেন।

হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যাদের ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ হিসেবেও ডাকা হয়। সেই সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ছিলেন কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনে শ্রীমতী প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কনের মা মৃত সীমা রানি বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও তারা তাদের কন্যা প্রীতি রানী বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর মতে, সমাজে তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে এবং সব পেশার মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। জনপ্রতিনিধি বা উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনা দেশে খুবই বিরল বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমানভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য। কোনো পেশাই অমর্যাদার নয়, অসম্মানের নয়, কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—এ কথা আমরা বিশ্বাস করি এবং সবাইকে বিশ্বাস করাতে চাই।”

জেলা প্রশাসকের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ও মানবিক আচরণ এখন গাজীপুরজুড়ে প্রশংসার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সার সংকটের কারণ ও করণীয় নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ

error: Content is protected !!

হরিজন সম্প্রদায়ের মা-হারা এতিম কনের বিয়েতে গাজীপুর ডিসি, মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

আপডেট সময় ০১:৩০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক মা-হারা এতিম কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। অনেকেই খুশিতে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রণাম করতে থাকেন।

হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যাদের ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ হিসেবেও ডাকা হয়। সেই সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ছিলেন কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনে শ্রীমতী প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কনের মা মৃত সীমা রানি বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও তারা তাদের কন্যা প্রীতি রানী বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর মতে, সমাজে তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে এবং সব পেশার মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। জনপ্রতিনিধি বা উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনা দেশে খুবই বিরল বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমানভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য। কোনো পেশাই অমর্যাদার নয়, অসম্মানের নয়, কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—এ কথা আমরা বিশ্বাস করি এবং সবাইকে বিশ্বাস করাতে চাই।”

জেলা প্রশাসকের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ও মানবিক আচরণ এখন গাজীপুরজুড়ে প্রশংসার বিষয় হয়ে উঠেছে।