
গাজীপুর মহানগরের দখল, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে পড়া খালসমূহ পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। সোমবার (২ মার্চ) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুন্দিবাগ ব্রিজ এলাকায় প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ গাছা খাল সরেজমিন পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “খাল দখলের আর কোনো সুযোগ থাকবে না; পূর্ণাঙ্গ পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর আওতায় খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনে উঠে আসে, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত ভরাট ও আবর্জনা ফেলার কারণে খালটির নাব্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে; ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খালের পানির গতি ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং নগরবাসী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে। সারাদেশে জলাধার সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত অভিযানে সরকারের সমন্বিত কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন–এর প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার, প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারসহ সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত নগরায়নের চাপে প্রাকৃতিক জলাধার সংকুচিত হওয়ায় জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। খাল পুনঃখনন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কঠোর দখলমুক্ত অভিযান এবং জনসচেতনতা—এই চারটি পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে গাজীপুরকে পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিশেষ প্রতিনিধি 


















