ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রাপথে মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত সরকারের নেতৃত্বে জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়ায় বিএনপির উদ্যোগে বর্ষবরণ ও মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় গাজীপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন Logo আনন্দ-উচ্ছ্বাসে, ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় গাজীপুর জেলা পরিষদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন Logo গাজীপুরে পেশকার জোবায়েরের ঘুষ বাণিজ্য, মামলায় দুই পক্ষ থেকেই অর্থ নেওয়া, বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিতের চেষ্টা Logo গাজীপুরে চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলা ১৪৩৩-এর উদ্বোধন Logo গাজীপুরে কৃষিজমির মাটি কাটায় অভিযান, ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo গাজীপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফাকরুল ইসলামকে ঘিরে অপপ্রচার: তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি Logo গাজীপুর ক্লাব লিঃ-এর পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা Logo উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে অনুদান বিতরণ করেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ইশরাক সিদ্দিকী

সংস্কৃতি আর সৌহার্দ্যের উৎসব: কালীগঞ্জে শতবর্ষী জামাই মেলা অনুষ্ঠিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি বসা এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। কারণ, মেলার মূল আকর্ষণই হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা বড় ও বাহারি মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে জামাইদের প্রতিযোগিতা।

বছরের এই একটি দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ। বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামে যাঁরা বিয়ে করেছেন, সেই জামাইরাই মেলার প্রধান ক্রেতা। শ্বশুরবাড়িতে সম্মান রক্ষার প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে বড় মাছটি কেনার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে, মেয়ে ও জামাইকে আপ্যায়ন করতে শ্বশুররাও মেলা থেকে বড় মাছ কিনে নিয়ে যান বাড়িতে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে মেলায় হাজির হন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিক্রেতারা মাছ তুলে ধরে হাঁকডাক দেন। শুধু কালীগঞ্জ নয়, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকেও দর্শনার্থীরা এ মেলায় অংশ নেন।

এবারের মেলায় প্রায় চার শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলশা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইক্কা, রূপচাঁদাসহ নানা জাতের দেশি মাছ ছিল মেলার প্রধান পণ্য। মাছের পাশাপাশি আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

জামাই মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে এ মেলার সূচনা হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে এবং মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বেচাকেনার চেয়ে এই মেলার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে আজও টিকে আছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই জামাই মেলা কালীগঞ্জের সামাজিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রাপথে মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত সরকারের নেতৃত্বে জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনা

সংস্কৃতি আর সৌহার্দ্যের উৎসব: কালীগঞ্জে শতবর্ষী জামাই মেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০১:০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি বসা এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। কারণ, মেলার মূল আকর্ষণই হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা বড় ও বাহারি মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে জামাইদের প্রতিযোগিতা।

বছরের এই একটি দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ। বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামে যাঁরা বিয়ে করেছেন, সেই জামাইরাই মেলার প্রধান ক্রেতা। শ্বশুরবাড়িতে সম্মান রক্ষার প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে বড় মাছটি কেনার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে, মেয়ে ও জামাইকে আপ্যায়ন করতে শ্বশুররাও মেলা থেকে বড় মাছ কিনে নিয়ে যান বাড়িতে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে মেলায় হাজির হন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিক্রেতারা মাছ তুলে ধরে হাঁকডাক দেন। শুধু কালীগঞ্জ নয়, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকেও দর্শনার্থীরা এ মেলায় অংশ নেন।

এবারের মেলায় প্রায় চার শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলশা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইক্কা, রূপচাঁদাসহ নানা জাতের দেশি মাছ ছিল মেলার প্রধান পণ্য। মাছের পাশাপাশি আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

জামাই মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে এ মেলার সূচনা হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে এবং মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বেচাকেনার চেয়ে এই মেলার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে আজও টিকে আছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই জামাই মেলা কালীগঞ্জের সামাজিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।