ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু Logo ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা, ভাওয়ালগড়ে  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাছাই পর্ব উদ্বোধন করেন জয়নাল আবেদীন রিজভী

সংস্কৃতি আর সৌহার্দ্যের উৎসব: কালীগঞ্জে শতবর্ষী জামাই মেলা অনুষ্ঠিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি বসা এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। কারণ, মেলার মূল আকর্ষণই হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা বড় ও বাহারি মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে জামাইদের প্রতিযোগিতা।

বছরের এই একটি দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ। বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামে যাঁরা বিয়ে করেছেন, সেই জামাইরাই মেলার প্রধান ক্রেতা। শ্বশুরবাড়িতে সম্মান রক্ষার প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে বড় মাছটি কেনার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে, মেয়ে ও জামাইকে আপ্যায়ন করতে শ্বশুররাও মেলা থেকে বড় মাছ কিনে নিয়ে যান বাড়িতে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে মেলায় হাজির হন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিক্রেতারা মাছ তুলে ধরে হাঁকডাক দেন। শুধু কালীগঞ্জ নয়, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকেও দর্শনার্থীরা এ মেলায় অংশ নেন।

এবারের মেলায় প্রায় চার শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলশা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইক্কা, রূপচাঁদাসহ নানা জাতের দেশি মাছ ছিল মেলার প্রধান পণ্য। মাছের পাশাপাশি আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

জামাই মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে এ মেলার সূচনা হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে এবং মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বেচাকেনার চেয়ে এই মেলার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে আজও টিকে আছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই জামাই মেলা কালীগঞ্জের সামাজিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির

error: Content is protected !!

সংস্কৃতি আর সৌহার্দ্যের উৎসব: কালীগঞ্জে শতবর্ষী জামাই মেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০১:০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি বসা এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাছের মেলা’ নামেও পরিচিত। কারণ, মেলার মূল আকর্ষণই হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা বড় ও বাহারি মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে জামাইদের প্রতিযোগিতা।

বছরের এই একটি দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ। বিনিরাইল ও আশপাশের গ্রামে যাঁরা বিয়ে করেছেন, সেই জামাইরাই মেলার প্রধান ক্রেতা। শ্বশুরবাড়িতে সম্মান রক্ষার প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে বড় মাছটি কেনার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে, মেয়ে ও জামাইকে আপ্যায়ন করতে শ্বশুররাও মেলা থেকে বড় মাছ কিনে নিয়ে যান বাড়িতে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে মেলায় হাজির হন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিক্রেতারা মাছ তুলে ধরে হাঁকডাক দেন। শুধু কালীগঞ্জ নয়, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকেও দর্শনার্থীরা এ মেলায় অংশ নেন।

এবারের মেলায় প্রায় চার শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলশা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইক্কা, রূপচাঁদাসহ নানা জাতের দেশি মাছ ছিল মেলার প্রধান পণ্য। মাছের পাশাপাশি আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

জামাই মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে এ মেলার সূচনা হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে এবং মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বেচাকেনার চেয়ে এই মেলার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে আজও টিকে আছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই জামাই মেলা কালীগঞ্জের সামাজিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।