ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক Logo শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে ডাক্তার-আনসারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত, সদর মেট্রো থানা কমিউনিটি পুলিশ দল চ্যাম্পিয়ন Logo খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে তিনতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর করেন অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এমপি Logo গাজীপুরে দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo গাজীপুর সিটিজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক Logo গাজীপুরে সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ- ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, প্রেমিকের হাতে খুন Logo সালনা-দেশীপাড়া-জয়দেবপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ, দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, বড় বড় গর্তে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা সভা: অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান প্রতিমন্ত্রী

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েই বদলের ছোঁয়া গাজীপুর জেলা পরিষদে, ফিরছে শৃঙ্খলা ও আস্থা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট বিদ্যমান, গাজীপুর জেলা পরিষদে তার বিপরীতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা মিলছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নান্দনিক উন্নয়নে যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন, তা ইতোমধ্যে আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ঘিরে নেওয়া উদ্যোগটি বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা ভাঙা মোড়ালটিকে কেবল সংস্কার নয়, বরং গাজীপুর জেলা ও বাংলাদেশের মানচিত্র শিল্পসম্মতভাবে স্থাপন করে সেটিকে রূপ দেওয়া হয়েছে একটি প্রতীকী নান্দনিকতায়। ধ্বংসস্তূপে সৃজনশীল পুনর্গঠনের এই প্রয়াস শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি, বরং একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক দর্শনও তুলে ধরেছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এসেছে দৃশ্যমান গতি। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদান, নতুন অফিস রেজিস্টার সংযোজনের মাধ্যমে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত, দীর্ঘদিন বেহাত হয়ে যাওয়া মূল্যবান জমি উদ্ধারে উদ্যোগ, রাজস্ব আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য বকেয়া পরিশোধ, পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু প্রশাসনের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা ও আস্থার নতুন বলয়। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিত নেতৃত্ব ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে গাজীপুর জেলা পরিষদ অচিরেই একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো—শুরুর সাফল্যই শেষ কথা নয়। এই উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে ন্যায়নীতির পথে অবিচল থাকা—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই প্রমাণ করতে হবে পরিবর্তনের স্থায়িত্ব।

গাজীপুর জেলা পরিষদে যে পরিবর্তনের আভাস মিলছে, তা কেবল একটি জেলার গল্প নয়; এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের একটি সম্ভাব্য মডেল। এখন প্রশ্ন একটাই—এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক

error: Content is protected !!

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েই বদলের ছোঁয়া গাজীপুর জেলা পরিষদে, ফিরছে শৃঙ্খলা ও আস্থা

আপডেট সময় ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট বিদ্যমান, গাজীপুর জেলা পরিষদে তার বিপরীতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা মিলছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নান্দনিক উন্নয়নে যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন, তা ইতোমধ্যে আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ঘিরে নেওয়া উদ্যোগটি বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা ভাঙা মোড়ালটিকে কেবল সংস্কার নয়, বরং গাজীপুর জেলা ও বাংলাদেশের মানচিত্র শিল্পসম্মতভাবে স্থাপন করে সেটিকে রূপ দেওয়া হয়েছে একটি প্রতীকী নান্দনিকতায়। ধ্বংসস্তূপে সৃজনশীল পুনর্গঠনের এই প্রয়াস শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি, বরং একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক দর্শনও তুলে ধরেছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এসেছে দৃশ্যমান গতি। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদান, নতুন অফিস রেজিস্টার সংযোজনের মাধ্যমে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত, দীর্ঘদিন বেহাত হয়ে যাওয়া মূল্যবান জমি উদ্ধারে উদ্যোগ, রাজস্ব আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য বকেয়া পরিশোধ, পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু প্রশাসনের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা ও আস্থার নতুন বলয়। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিত নেতৃত্ব ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে গাজীপুর জেলা পরিষদ অচিরেই একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো—শুরুর সাফল্যই শেষ কথা নয়। এই উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে ন্যায়নীতির পথে অবিচল থাকা—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই প্রমাণ করতে হবে পরিবর্তনের স্থায়িত্ব।

গাজীপুর জেলা পরিষদে যে পরিবর্তনের আভাস মিলছে, তা কেবল একটি জেলার গল্প নয়; এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের একটি সম্ভাব্য মডেল। এখন প্রশ্ন একটাই—এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।