
দল গঠনের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। অনেক প্রার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে মাত্র এক–দেড় বছর আগে। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা। অথচ তাদের নির্বাচনি হলফনামায় উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও আয়ের তথ্য, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার আয়, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বয়স ও পেশাগত অভিজ্ঞতার তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামায় তিনি নিজেকে পরামর্শক পরিচয় দিয়ে ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই, তবে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৩ লাখ টাকা। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে ২৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তার স্ত্রীর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী ও মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেখা গেছে, তার হাতে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। অথচ একই আসনে মনোনয়ন দেওয়া তার বাবার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় এটি ১৮ গুণের বেশি। হান্নান মাসউদ নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন।
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হলফনামায় নিজের হাতে ২৫ লাখ টাকা নগদ ও স্বামী-স্ত্রী মিলে ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারের হিসাব দিয়েছেন। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে তুলনামূলক কম।
পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পদ দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তিনি ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ ও ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, সদ্য পদত্যাগী এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় ১৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন।
সিলেট অঞ্চলের তিনটি আসনে এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে একজন কোটিপতি প্রার্থীও রয়েছেন। সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী মো. রাশেল উল আলমের হলফনামায় দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে বছরে কোটি টাকার বেশি আয়ের তথ্য রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দুই কোটির বেশি।
আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে এসব হলফনামা যাচাই করা হবে।
নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কথা বললেও এনসিপি প্রার্থীদের সম্পদের এই চিত্র জনমনে প্রশ্ন তুলছে।
নিজস্ব সংবাদ : 


















