
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঘোষিত ইশতেহারে গণতন্ত্র ও জাতি গঠন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান, সংবিধান সংস্কার, সুশাসন এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ অপবাদ থেকে বেরিয়ে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছিল। ফ্যাসিবাদের পতনের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন সময় রাষ্ট্র পুনর্গঠনের।
তিনি বলেন, জাতি গঠন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের সুযোগ ছাড়া প্রকৃত জবাবদিহিতা সম্ভব নয়।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে।
তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান অঙ্গীকার।
দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে।
ইশতেহারে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ন্যায়পাল নিয়োগের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি। একপাক্ষিক বিচার ব্যবস্থার ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন বলেও উল্লেখ করেন।
নিজস্ব সংবাদ : 


















