ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অনিবার্য মুহূর্ত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৫৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার হরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং বিরোধী রাজনীতিকে দমন করার অভিযোগে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক অনিবার্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় নয়; এটি কার্যত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘ প্রবাসজীবনেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, দমন–পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি রাজনীতির মাঠে বিরোধী শক্তিকে আরও সুসংগঠিত ও দৃঢ় করবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্বশূন্যতা বরাবরই গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ। সংসদের বাইরে রাজপথে এবং জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের ভাষা ফের উচ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনাও এখানেই নিহিত।

তবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি হতে হবে দায়িত্বশীল, সুসংগঠিত ও ভবিষ্যতমুখী নেতৃত্বের প্রতিফলন। তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং দলীয় সংস্কারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াও সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলের কাছেও প্রত্যাশা স্পষ্ট। গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ভয় নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখতে হবে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংকীর্ণতার শিকার না হয়—এ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নাগরিক অধিকারেরই অংশ।

সবশেষে বলা যায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি ঘটনা নয়—এটি একটি বার্তা। এই বার্তা হলো, গণতন্ত্রকে চিরদিন বন্দি করে রাখা যায় না। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেমে থাকে না। এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সহনশীল রাজনীতি এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নতুন গতি সঞ্চার করুক—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

error: Content is protected !!

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অনিবার্য মুহূর্ত

আপডেট সময় ০১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার হরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং বিরোধী রাজনীতিকে দমন করার অভিযোগে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক অনিবার্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় নয়; এটি কার্যত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘ প্রবাসজীবনেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, দমন–পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি রাজনীতির মাঠে বিরোধী শক্তিকে আরও সুসংগঠিত ও দৃঢ় করবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্বশূন্যতা বরাবরই গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ। সংসদের বাইরে রাজপথে এবং জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের ভাষা ফের উচ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনাও এখানেই নিহিত।

তবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি হতে হবে দায়িত্বশীল, সুসংগঠিত ও ভবিষ্যতমুখী নেতৃত্বের প্রতিফলন। তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং দলীয় সংস্কারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াও সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলের কাছেও প্রত্যাশা স্পষ্ট। গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ভয় নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখতে হবে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংকীর্ণতার শিকার না হয়—এ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নাগরিক অধিকারেরই অংশ।

সবশেষে বলা যায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি ঘটনা নয়—এটি একটি বার্তা। এই বার্তা হলো, গণতন্ত্রকে চিরদিন বন্দি করে রাখা যায় না। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেমে থাকে না। এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সহনশীল রাজনীতি এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নতুন গতি সঞ্চার করুক—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।