
বিশেষ প্রতিনিধি: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে গাজীপুরে পালিত হয়েছে বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে স্মার্ট সাদা ছড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগরীর শ্মশানঘাট এলাকায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রধান অতিথির নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়।
শোভাযাত্রা শেষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়র রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মো. জোবায়ের আহম্মেদ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিমা রানি বর্মন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাদা ছড়ি শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সহায়ক উপকরণ নয়, এটি তাঁদের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। নিরাপদে চলাচল, শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থান এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা তাঁদের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার বাস্তবায়নকে দয়া বা অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই।
বক্তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা, যোগ্যতা ও স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। কিন্তু সামাজিক অবহেলা, অসচেতনতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকেই তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সামাজিক বাধাও তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
তাঁরা বলেন, সাদা ছড়ি চলার পথ চিনতে সহায়তা করে, কিন্তু সেই পথ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বৈষম্যহীন, বাধামুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বাদ দিয়ে নয়, বরং সঙ্গে নিয়েই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক এ টি এম তোহিদ উজ্জামান, দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. বোরহানউদ্দীন, জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম, ‘আশার তরী’ প্রতিবন্ধী সংস্থার মো. সোলায়মান হোসেন এবং ব্র্যাক গাজীপুরের মোসা. সেলিনা আক্তার। এ সময় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি ও সভাপতির উপস্থিতিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে স্মার্ট সাদা ছড়ি বিতরণ করা হয়।
নিজস্ব সংবাদ : 










