
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে সহনশীলতা ও টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার ২ লাখ ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার অতিদরিদ্র মানুষের জন্য বহুমুখী সেবা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চার বছর ধরে চলা ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল-ইইউ (পিপিইপিপি-ইইউ)’ প্রকল্পের অর্জন ও শিখন তুলে ধরে মঙ্গলবার ঢাকায় এর সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এ তথ্য জানায়। পিকেএসএফ’র আয়োজনে ‘ঋৎড়স ঊীঃৎবসব চড়াবৎঃু ঃড় জবংরষরবহপব ধহফ চৎড়ংঢ়বৎরঃু’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের চার বছরের কার্যক্রম, অর্জন ও শিখন তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান মিচাল ক্রেজা। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। স্বাগত বক্তব্য দেবেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
পিকেএসএফ জানায়, দারিদ্র্য বিমোচনে সংস্থাটির তিন দশকের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সাল থেকে পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় দেশের তিনটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল অতিদরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পাশাপাশি তাদের জীবিকার সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সহনশীলতা তৈরি এবং টেকসইভাবে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার খানার ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে বহুমুখী সেবা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের দারিদ্র্য থেকে টেকসইভাবে বের করে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
পিকেএসএফ জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের চার বছরে অর্জিত ফলাফল ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন, অভিজ্ঞতা ও শিখন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কী ধরনের কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত তুলে ধরা হবে। দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আরও সহনশীল ও স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়টিও প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বের জায়গা ছিল।
নিজস্ব সংবাদ : 










