ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু Logo ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা, ভাওয়ালগড়ে  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাছাই পর্ব উদ্বোধন করেন জয়নাল আবেদীন রিজভী

ব্যক্তিগত অর্থায়নে মঠখোলায় সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ হাসান আহমেদ রমজানের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় দীর্ঘদিনের বেহাল সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও চালকেরা। সরকারি সংস্কারের অপেক্ষায় না থেকে এবার নিজ উদ্যোগে সড়ক মেরামতের কাজে এগিয়ে এসেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কটিয়াদী-টোক-কাপাসিয়া-গাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মঠখোলা পল্লী বিকাশ কেন্দ্র সংলগ্ন সানলাইট পিকেডেট স্কুলের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে বেহাল হয়ে আছে। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের কিছু অংশ তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি। বৃষ্টির পর ভরাট করা বালু ও মাটি সরে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে যায়। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে। পাশাপাশি রাতে গর্তগুলো ঠিকমতো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাতুল কিবরিয়া বলেন, মঠখোলা থেকে কটিয়াদী পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর আবারও গর্ত তৈরি হয়। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনের অংশটি রাতে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নামমাত্র সংস্কার নয়, সড়কটির স্থায়ী সমাধান চান তারা।

যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। বড় বড় গর্তের কারণে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

অটোরিকশাচালক জব্বার বলেন, সড়কের গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভোগান্তি হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে চালক ও যাত্রী—দুই পক্ষেরই দুর্ভোগ কমবে।

স্থানীয়দের মতে, মঠখোলা-কটিয়াদী-টোক হয়ে কাপাসিয়া-গাজীপুরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল দশা পুরো যোগাযোগব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

এ অবস্থায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করায় হাসান আহমেদ রমজানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে সড়কটির পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অংশের টেকসই সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।

হাসান আহমেদ রমজান বলেন, ‘আমি এই এলাকারই একজন নাগরিক। মানুষের দুর্ভোগ নিজের চোখে দেখেছি। তাই সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, কটিয়াদী-মঠখোলা-টোক হয়ে কাপাসিয়া-গাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

সড়ক সংস্কারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যে সংস্কার করা হয়েছিল, এক-দুই দফা বৃষ্টির পরই তার অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের মান যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না এবং কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাজের মান নিশ্চিত হওয়ার পর ঠিকাদারের বিল পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

হাসান আহমেদ রমজান বলেন, ‘মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কাজ শুরু করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির

error: Content is protected !!

ব্যক্তিগত অর্থায়নে মঠখোলায় সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ হাসান আহমেদ রমজানের

আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় দীর্ঘদিনের বেহাল সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও চালকেরা। সরকারি সংস্কারের অপেক্ষায় না থেকে এবার নিজ উদ্যোগে সড়ক মেরামতের কাজে এগিয়ে এসেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কটিয়াদী-টোক-কাপাসিয়া-গাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মঠখোলা পল্লী বিকাশ কেন্দ্র সংলগ্ন সানলাইট পিকেডেট স্কুলের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে বেহাল হয়ে আছে। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের কিছু অংশ তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি। বৃষ্টির পর ভরাট করা বালু ও মাটি সরে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে যায়। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে। পাশাপাশি রাতে গর্তগুলো ঠিকমতো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাতুল কিবরিয়া বলেন, মঠখোলা থেকে কটিয়াদী পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর আবারও গর্ত তৈরি হয়। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনের অংশটি রাতে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নামমাত্র সংস্কার নয়, সড়কটির স্থায়ী সমাধান চান তারা।

যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। বড় বড় গর্তের কারণে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

অটোরিকশাচালক জব্বার বলেন, সড়কের গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভোগান্তি হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে চালক ও যাত্রী—দুই পক্ষেরই দুর্ভোগ কমবে।

স্থানীয়দের মতে, মঠখোলা-কটিয়াদী-টোক হয়ে কাপাসিয়া-গাজীপুরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল দশা পুরো যোগাযোগব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

এ অবস্থায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করায় হাসান আহমেদ রমজানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে সড়কটির পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অংশের টেকসই সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।

হাসান আহমেদ রমজান বলেন, ‘আমি এই এলাকারই একজন নাগরিক। মানুষের দুর্ভোগ নিজের চোখে দেখেছি। তাই সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, কটিয়াদী-মঠখোলা-টোক হয়ে কাপাসিয়া-গাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

সড়ক সংস্কারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যে সংস্কার করা হয়েছিল, এক-দুই দফা বৃষ্টির পরই তার অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের মান যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না এবং কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাজের মান নিশ্চিত হওয়ার পর ঠিকাদারের বিল পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

হাসান আহমেদ রমজান বলেন, ‘মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কাজ শুরু করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’