
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ডিবি পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পপি খানম (৩০) নামে এক নারী।
আবেদনে পপি খানম উল্লেখ করেন, তিনি একজন চাকরিজীবী নারী। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন রথখোলা সংলগ্ন আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ওই সময় থেকে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় ও কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হলে আনোয়ার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে ওই নারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। পরবর্তীতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় আনোয়ারের মালিকানাধীন ৪/বি নম্বর ফ্ল্যাটে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাকে একই ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিয়ের কথা বললে তাকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিয়ে আনোয়ার হোসেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, কয়েকদিন আগে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার দেখা হলে বিয়ে ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় আনোয়ার তাকে আইনের আশ্রয় নিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন জানিয়ে পপি খানম বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচারের আশায় ডিবি পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন।
আবেদনে অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনটি তার স্ত্রীর কাছে দেন। পরে তার স্ত্রীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পপির সঙ্গে তার স্বামীর মেলামেশার অভিযোগের কোনো প্রমাণ থাকলে তা দেখাতে বলেন।
নিজস্ব সংবাদ : 










