ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু Logo ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা, ভাওয়ালগড়ে  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাছাই পর্ব উদ্বোধন করেন জয়নাল আবেদীন রিজভী

গাজীপুরে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ৫টি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গাজীপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মো. আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

গাজীপুর-২ আসনে সবচেয়ে বেশি আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় মো. আতিকুল ইসলাম, খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নির্ধারিত ফরমে তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করায় গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। যথাযথ হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ফরম ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে শরিফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে দাখিল না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

গাজীপুর-৩ আসনে দশজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইজাদুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম শাব্বির আলী ও ইসলামি ঐক্যজোটের মুফতি শামীম আহমদ এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা।

গাজীপুর-৪ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ৩০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল না করা, স্বাক্ষর ও দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকায় আমজনতা দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাজিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া আয়কর সংক্রান্ত আপত্তি ও ভোটারদের স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

গাজীপুর-৫ আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মনোনয়ন ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। প্রস্তাবকারীর ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গাজী রুহুল আমীন কাসেমীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সব মিলিয়ে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে একদিনেই ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় জেলার নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচনী মাঠে কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য প্রার্থীরাই টিকে থাকবেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রার্থীরা লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। সবাইকে তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রচারণা চালালে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির

error: Content is protected !!

গাজীপুরে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ৫টি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আপডেট সময় ০১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গাজীপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মো. আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

গাজীপুর-২ আসনে সবচেয়ে বেশি আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় মো. আতিকুল ইসলাম, খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নির্ধারিত ফরমে তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করায় গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। যথাযথ হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ফরম ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে শরিফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে দাখিল না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

গাজীপুর-৩ আসনে দশজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইজাদুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম শাব্বির আলী ও ইসলামি ঐক্যজোটের মুফতি শামীম আহমদ এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা।

গাজীপুর-৪ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ৩০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল না করা, স্বাক্ষর ও দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকায় আমজনতা দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাজিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া আয়কর সংক্রান্ত আপত্তি ও ভোটারদের স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

গাজীপুর-৫ আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মনোনয়ন ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। প্রস্তাবকারীর ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গাজী রুহুল আমীন কাসেমীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সব মিলিয়ে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে একদিনেই ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় জেলার নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচনী মাঠে কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য প্রার্থীরাই টিকে থাকবেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রার্থীরা লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। সবাইকে তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রচারণা চালালে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।