
গাজীপুরের কাশিমপুর ভূমি অফিসে জমির নামজারি বা খারিজ করতে গিয়ে আর্থিক হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। অফিসটির উপ সহকারী নায়েব হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে খারিজের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, টাকা না দিলে আবেদন বাতিল, আবেদনে ভুল তথ্য উল্লেখ করে হয়রানি এবং ভূমি উন্নয়ন করের টাকা নেওয়ার পর জমা করা অর্থের তুলনায় অনেক কম টাকার অনলাইন রসিদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কোনাবাড়ি ও কাশিমপুরের গোবিন্দবাড়ি মৌজার কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ফারুক ও মোস্তফা অভিযোগ করেন, তাঁরা জমির নামজারির জন্য আবেদন করার পর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়। পরে উপসহকারী নায়েব হাজেরা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের ১০ হাজার টাকা দিলে খারিজ হবে বলে জানানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের নামজারি কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একই ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। তাঁদের ভাষ্য, টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়, কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে আবেদন আটকে রাখা বা বাতিল করা হয়।
এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তাঁর জমির নামজারির আবেদনে খতিয়ান নম্বর ছিল ১১৬। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথিতে ১১৬-এর পরিবর্তে ১৬৬ উল্লেখ করা হয়। এ ভুলের কারণে তাঁকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে এবং আবেদনটি বাতিল করা হয়। তাঁর অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় এ ধরনের ভুল তথ্য উল্লেখ করে আবেদন বাতিলের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া উপসহকারী নায়েব হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ গ্রহণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগও করেছেন এক সেবাগ্রহীতা।
সেবাগ্রহীতাদের আরও অভিযোগ, ভূমি অফিসে কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে হাজেরা খাতুন অনেক সময় কথা বলতে চান না বরং খারাপ আচরণ করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। তাঁদের দাবি, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে এমন আচরণের শিকার হওয়ায় তাঁরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভূমি মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। জমির নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো সেবা পেতে সরকারি নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা। সেখানে অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা নথিতে ভুলের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।
সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
স্টাফ রিপোর্টার 









