
গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ মহানগরীর সব সরকারি খাস পুকুর দখল ও দূষণমুক্ত করে সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের দাবি উঠেছে। নগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে রাজদিঘীর পাড়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ, ডাস্টবিন স্থাপন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘ভাওয়াল রাজদিঘী সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন আন্দোলন’।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা খাস পুকুরগুলো চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার এবং পর্যায়ক্রমে সংস্কারের জন্য প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে রাজদিঘীসংলগ্ন বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন রনির সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম আলমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন গাজীপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হাফিজুল্লাহ দর্জি, সিরাজুল হক খোকা, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, মো. জাহিদ শেখ, ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. আসিফুজ্জামান, মাশরুর আরেফিন রাতুলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মনোয়ার হোসেন রনি বলেন, শতবর্ষী ভাওয়াল রাজদিঘী সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে নগরের পরিবেশ রক্ষায় শুধু রাজদিঘী সংস্কার করলেই চলবে না; অন্যান্য খাস পুকুরও দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। এসব জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাজদিঘীর পানি ও পাড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। জলাশয়ের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশে সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মহানগরীর খাস পুকুরগুলো সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। এসব জলাশয় দখলমুক্ত, বর্জ্যমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। জলাশয় হারিয়ে গেলে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সমাবেশ থেকে কাজী আজিম উদ্দিন কলেজসংলগ্ন পুকুরটি দ্রুত সংস্কার করে এর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, পুকুরটি পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হলে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি টাংকির পাড় পুকুর, মুন্সিপাড়া পুকুর, গাজীপুর ক্লাবসংলগ্ন পুকুরসহ মহানগরীর অন্যান্য খাস পুকুরও পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা বলেন, জলাশয় সংরক্ষণ কেবল নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিষয় নয়; এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, বৃষ্টির পানি ধারণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে জড়িত। পুকুর ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করবে।
তাঁদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপে প্রাকৃতিক জলাশয় হারিয়ে গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত সংকট আরও বাড়তে পারে। তাই নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাশয় সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে খাস পুকুরের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল চিহ্নিতকরণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসাধারণের চলাচল ও অবসরযাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজদিঘী থেকে শুরু করে গাজীপুর মহানগরীর প্রতিটি খাস পুকুর রক্ষায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে জলাশয় পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।
নিজস্ব সংবাদ : 










