ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু Logo ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা, ভাওয়ালগড়ে  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাছাই পর্ব উদ্বোধন করেন জয়নাল আবেদীন রিজভী

নবীনগরে সরিষা চাষে নতুন সম্ভাবনা, সাড়া ফেলেছে বারি সরিষা–২০

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তেলজাত ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি সরিষা–২০। প্রথমবারের মতো উপজেলার দশ বিঘা জমিতে এই জাতের সরিষা আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলনের ইঙ্গিত মিলেছে।

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। কৃষকদের প্রদর্শনী উপকরণ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় বারি সরিষা–২০ গাছের উচ্চতা বেশি, শুঁটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং গাছ তুলনামূলক শক্ত ও স্বাস্থ্যবান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা–২০ একটি স্বল্প মেয়াদি জাত। এর জীবনকাল প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ দিন। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে ২ দশমিক ২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা প্রচলিত জাতের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি বীজে তেলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ভালো।

রোগ সহনশীলতা ও জলবায়ু উপযোগিতার দিক থেকেও জাতটি এগিয়ে। লিফ ব্লাইটসহ সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে সহনশীল এবং খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই সরিষা।

বিটঘর ইউনিয়নের কৃষক সুমি আক্তার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বারি সরিষা–২০ এর প্রদর্শনী আবাদ গ্রহণ করেছেন তিনি। মাঠের বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও বীজ সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁর আশা, বিঘা প্রতি প্রায় সাত মণ ফলন পাওয়া যাবে।

বিটঘর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রিপন জানান, এই জাতের পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে, গাছ শক্ত হয় এবং শুঁটির সংখ্যা বেশি থাকে। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, কৃষকদের নতুন জাতের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বারি সরিষা–২০ এর ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে দশ বিঘা জমিতে আবাদ হলেও আগামী মৌসুমে ৫০০ বিঘা জমিতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে বীজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে, গাছে যে পরিমাণ শুঁটি ধরেছে, তাতে ভবিষ্যতে এই জাত তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, বারি সরিষা–২০ এর আবাদ বাড়লে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির

error: Content is protected !!

নবীনগরে সরিষা চাষে নতুন সম্ভাবনা, সাড়া ফেলেছে বারি সরিষা–২০

আপডেট সময় ১১:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তেলজাত ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি সরিষা–২০। প্রথমবারের মতো উপজেলার দশ বিঘা জমিতে এই জাতের সরিষা আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলনের ইঙ্গিত মিলেছে।

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। কৃষকদের প্রদর্শনী উপকরণ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় বারি সরিষা–২০ গাছের উচ্চতা বেশি, শুঁটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং গাছ তুলনামূলক শক্ত ও স্বাস্থ্যবান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা–২০ একটি স্বল্প মেয়াদি জাত। এর জীবনকাল প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ দিন। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে ২ দশমিক ২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা প্রচলিত জাতের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি বীজে তেলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ভালো।

রোগ সহনশীলতা ও জলবায়ু উপযোগিতার দিক থেকেও জাতটি এগিয়ে। লিফ ব্লাইটসহ সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে সহনশীল এবং খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই সরিষা।

বিটঘর ইউনিয়নের কৃষক সুমি আক্তার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বারি সরিষা–২০ এর প্রদর্শনী আবাদ গ্রহণ করেছেন তিনি। মাঠের বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও বীজ সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁর আশা, বিঘা প্রতি প্রায় সাত মণ ফলন পাওয়া যাবে।

বিটঘর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রিপন জানান, এই জাতের পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে, গাছ শক্ত হয় এবং শুঁটির সংখ্যা বেশি থাকে। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, কৃষকদের নতুন জাতের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বারি সরিষা–২০ এর ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে দশ বিঘা জমিতে আবাদ হলেও আগামী মৌসুমে ৫০০ বিঘা জমিতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে বীজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে, গাছে যে পরিমাণ শুঁটি ধরেছে, তাতে ভবিষ্যতে এই জাত তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, বারি সরিষা–২০ এর আবাদ বাড়লে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।