ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়, কাজে ফেরার আহ্বান এমপি রনির Logo গাজীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্বোধন, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন উদ্যোগ Logo গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় এনসিপি নেতা আলী নাসের, পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড Logo শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: জয়নাল আবেদীন রিজভী Logo কাশিমপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলে না খারিজ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা, মূলহোতা উপ-সহকারী নায়েব হাজেরা Logo গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার Logo মুন্সিপাড়ার নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি দিলেন গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন Logo মির্জাপুরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo মাদকের বিরুদ্ধে ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু

বারিতে শ্রমিকদের জোরালো আন্দোলন: পাঁচ দফা দাবিতে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এ কর্মরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠান চত্বর। পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বিএআরআই শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ সভা ও মিছিল করেছেন সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে কর্মরত সকল শ্রমিক।

সমাবেশে মো. ইব্রাহিম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বারি শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আক্কাস আলী, বারি শ্রমিক ক্লাবের সভাপতি মো. আমির হোসেন, সদর মেট্রোথানা শ্রমিক দলের ও বারি শ্রমিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ রানা মৃধা।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএআরআই দেশের কৃষি উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হলেও এখানকার শ্রমিকরা বছরের পর বছর অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তারা বলেন, “যে শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে-ঘাটে, গবেষণাগারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই শ্রমিকদের জীবনমান আজ চরম অনিশ্চয়তায়। নিয়মিতকরণ ও ন্যায্য হাজিরা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।”

বক্তারা বলেন, “২০১৭ সালের দ্বৈততার নীতিমালা শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। একই কাজ করেও এক শ্রেণির শ্রমিক নিয়মিত সুবিধা পেলেও অন্য শ্রেণি বছরের পর বছর অনিয়মিত থেকে যাচ্ছে। এই বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না।”

মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পরিবার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, “দশকের পর দশক ধরে যারা প্রতিষ্ঠানকে শ্রম দিয়ে গেছেন, তাদের মৃত্যুর পর পরিবারগুলো আজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও যোগ্য সন্তানরা নিয়োগ না পাওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

অতিরিক্ত কাজের প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতারা বলেন, “প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করানো হলেও তার কোনো ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না। বিনা মজুরিতে শ্রম নেওয়া আধুনিক দাসত্বের শামিল। অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি কিংবা সমপরিমাণ হাজিরা নিশ্চিত করতেই হবে।”

তারা আরও বলেন, “বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় মাসে ১৫-২০ দিনের হাজিরা দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। শ্রমিকদের জন্য ৩০ দিনের হাজিরা নিশ্চিত করা না হলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করি। তবে দাবি আদায়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে কর্মবিরতি, ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সন্দেহে আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

error: Content is protected !!

বারিতে শ্রমিকদের জোরালো আন্দোলন: পাঁচ দফা দাবিতে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এ কর্মরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠান চত্বর। পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বিএআরআই শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ সভা ও মিছিল করেছেন সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে কর্মরত সকল শ্রমিক।

সমাবেশে মো. ইব্রাহিম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বারি শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আক্কাস আলী, বারি শ্রমিক ক্লাবের সভাপতি মো. আমির হোসেন, সদর মেট্রোথানা শ্রমিক দলের ও বারি শ্রমিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ রানা মৃধা।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএআরআই দেশের কৃষি উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হলেও এখানকার শ্রমিকরা বছরের পর বছর অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তারা বলেন, “যে শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে-ঘাটে, গবেষণাগারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই শ্রমিকদের জীবনমান আজ চরম অনিশ্চয়তায়। নিয়মিতকরণ ও ন্যায্য হাজিরা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।”

বক্তারা বলেন, “২০১৭ সালের দ্বৈততার নীতিমালা শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। একই কাজ করেও এক শ্রেণির শ্রমিক নিয়মিত সুবিধা পেলেও অন্য শ্রেণি বছরের পর বছর অনিয়মিত থেকে যাচ্ছে। এই বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না।”

মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পরিবার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, “দশকের পর দশক ধরে যারা প্রতিষ্ঠানকে শ্রম দিয়ে গেছেন, তাদের মৃত্যুর পর পরিবারগুলো আজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও যোগ্য সন্তানরা নিয়োগ না পাওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

অতিরিক্ত কাজের প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতারা বলেন, “প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করানো হলেও তার কোনো ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না। বিনা মজুরিতে শ্রম নেওয়া আধুনিক দাসত্বের শামিল। অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি কিংবা সমপরিমাণ হাজিরা নিশ্চিত করতেই হবে।”

তারা আরও বলেন, “বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় মাসে ১৫-২০ দিনের হাজিরা দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। শ্রমিকদের জন্য ৩০ দিনের হাজিরা নিশ্চিত করা না হলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করি। তবে দাবি আদায়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে কর্মবিরতি, ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।