
মো. রাকিব হোসেনঃ ‘সবাই মিলে দেব কর, সিটি কর্পোরেশন হবে স্বনির্ভর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (১২ মে) মহানগরীর আটটি জোনে একযোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কর মেলা-২০২৬। নগরবাসীকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা, বকেয়া কর আদায় বৃদ্ধি এবং কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আনুষ্ঠানিকভাবে কর মেলার উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান, অঞ্চল-৪ এর কর নির্ধারণ কর্মকর্তা, মোঃ আতাউর রসূল ভূঁইয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশাই রিছীল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
কর মেলায় আবাসিক হোল্ডিং মালিকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের কর একসঙ্গে পরিশোধ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘোষণায় নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, “জনগণের রাজস্ব আয়ই নগর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্বনির্ভর নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের কর প্রদানের বিকল্প নেই। নাগরিকদের করের অর্থ দিয়েই রাস্তা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলোকায়ন ও অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কর মেলার মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও সহজ কর পরিশোধের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।”
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান বলেন, “কর আদায় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নগরবাসীর সুবিধার্থে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।”
কর মেলায় আগত নাগরিকরা জানান, একসঙ্গে কর পরিশোধে বড় অঙ্কের মওকুফ সুবিধা এবং দ্রুত সেবা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কর মেলা চলাকালে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ বুথ, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। আগামী এক মাস এই কর মেলা চলবে।
কর মেলার উদ্বোধন শেষে নগরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। এ সময় তিনি পণ্যের মূল্য তালিকা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের মান এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি সঠিক মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা দ্বিধা করবো না।”
নিজস্ব সংবাদ : 
















