
গাজীপুর জেলা পরিষদের ৬২ কোটি টাকার এফডিআর সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজীপুর জেলা পরিষদে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা আর্থিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলা পরিষদে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে জেলা পরিষদের আর্থিক সক্ষমতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি জানান, পূর্বে যেখানে জেলা পরিষদের এফডিআরের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ কোটি টাকা, সেখানে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১১৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এফডিআর নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা এফডিআর কোনো ব্যক্তি এককভাবে ভাঙাতে পারে না। ব্যাংকিং বিধি-বিধান, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকারি অডিটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তও পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদে গড়ে ওঠা একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং বদলির কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে জনস্বার্থে উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদান, অফিস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নতুন রেজিস্টার সংযোজন, বেহাত সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এছাড়া জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের একটি ভাঙা স্থাপনাকে সৃজনশীলভাবে পুনর্গঠন করে সেখানে গাজীপুর ও বাংলাদেশের মানচিত্র স্থাপন করায় স্থানীয়দের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে প্রশাসক ব্যারিস্টার ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী বলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কোনো অপপ্রচার বা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র উন্নয়নের এই ধারা থামাতে পারবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব সংবাদ : 
















