
গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ ও সব সাংগঠনিক পদ থেকে ২০১৯ সালেই অব্যাহতি পাওয়ার পরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে ‘আওয়ামী লীগ’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলায় আসামি করছে। শনিবার বিকেলে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান খান বলেন, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি যুবলীগ, বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে ২০১৯ সালের ২ মে তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি চান। পরে একই বছরের ২৯ জুলাই গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, দল থেকে অব্যাহতির পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাগারে থাকার পর ৫ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি চলতি বছরের ২৩ জুন তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমান খানের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের পদকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়াচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “২০১৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও আমাকে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে মামলার আসামি করা হচ্ছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের পদে যাদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে, তারাই পরোক্ষভাবে এসব মামলা করিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
তিনি জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিজস্ব সংবাদ : 










