বিশেষ প্রতিনিধি: পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ ও আন্দোলনে অস্থির হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। টানা চার দিন ধরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে, গত কয়েক দিনে শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়ছেন শিল্পমালিকরা।
এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নেন।
এ সময় শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কোনো শ্রমিক যেন জোরপূর্বক আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য না হন, আবার কেউ কাজে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া যাবে না। শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ যেন নাশকতা, ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে হবে। কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’
শওকত হোসেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ শ্রমিক, শিল্পমালিক ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একশ্রেণির ব্যক্তি শ্রমিক পরিচয়ে কারখানায় কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের বাধা দিচ্ছেন। এমনকি কারখানা থেকে শ্রমিকদের জোরপূর্বক বের করে এনে আন্দোলনে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের আরও অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সড়কে যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।