বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নগর উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসন বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা খানম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুদীপ বসাককে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে সুদীপ বসাকের বর্তমান পদবি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বের ফলে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকিতে তাঁর দায়িত্বের পরিধি বাড়ল।
গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরাঞ্চল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার বিস্তার এবং যানবাহনের চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন সিটি করপোরেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সুদীপ বসাক যান্ত্রিক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর দায়িত্বের আওতায় থাকা প্রকৌশল কার্যক্রমের সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন দায়িত্বে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয়, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
একটি বড় সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সমন্বয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সক্ষমতা প্রয়োজন। বিশেষ করে গাজীপুরের মতো শিল্পঘন নগরীতে সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকর তদারকি নাগরিক দুর্ভোগ কমানো এবং নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সুদীপ বসাকের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চলমান উন্নয়নকাজের গুণগত মান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবায় দৃশ্যমান সুফল গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ও দরপত্রসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
গাজীপুর নগরবাসীর প্রত্যাশা—সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে চলমান উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল হবে। প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়লে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ চলতি দায়িত্ব পালন করবেন। এখন তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণকাজের মান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নাগরিক সেবায় বাস্তব ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।