বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশকনিধন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নাগরিক সেবা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিল্পসমৃদ্ধ ও ঘনবসতিপূর্ণ গাজীপুরে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি করপোরেশন। এর অংশ হিসেবে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা ও শীত মৌসুমে মশার প্রকোপ বাড়ায় নগরবাসীকে মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে লার্ভিসাইড স্প্রে ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডের চাহিদা অনুযায়ী আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে মশার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক চাহিদা বিবেচনা করে এসব সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের চাহিদা অনুযায়ী মশার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। লার্ভিসাইড স্প্রে এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুদীপ বসাক জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং নগরবাসীকে সচেতন করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিজেদের বসতবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করা হবে।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। বিদ্যমান জনবল দিয়ে নগরীর বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য বর্জ্য থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, একটি আধুনিক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরীর গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা অপসারণে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ময়লা থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার তৈরির একটি প্রকল্পের কাজও চলমান। নগরীর রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যও ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক ও নেতৃত্বগত পরিবর্তনের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নগরীর অবকাঠামো, সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পানি, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, চলমান ও পরিকল্পনাধীন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপ নেবে। এজন্য সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।