গাজীপুর মহানগরীর তিনটি পৃথকস্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহৎ মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ। ‘মাদক সেবন বন্ধ কর, সুশীল সমাজ গড়ে তোল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২০ জুলাই) গাজীপুর মহানগরীর বাসন, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ীতে পৃথক মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাসন এলাকার ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় সুধীজনের উদ্যোগে এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন মেট্রো থানার সহযোগিতায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
সমাবেশে জিএমপি কমিশনার রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, কার্যকর তথ্যের ভিত্তিতে মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে এক লাখ টাকা এবং ছিনতাইকারীকে ধরতে সহায়তা করলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ সমাজ গড়তে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মজিবুর রহমান এমপি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাসন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এদিকে, একই দিনে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ীতেও অনুরূপ মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তারের সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতা ও নানা সামাজিক অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, অপরাধ দমনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
সমাবেশ শেষে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজিমুক্ত নিরাপদ গাজীপুর গড়ে তোলার সম্মিলিত অঙ্গীকার করেন উপস্থিত সবাই।