গাজীপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয়ের পেশকার মোঃ জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মামলার নামে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়েছে সুমন বক্সী।
জানা যায়, “মিস আপিল ১৭/১৮” মামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রেখে জোবায়ের হোসেন দুই পক্ষ থেকেই নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করে আসছেন। এতে করে বাদীকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, চাহিদামতো অর্থ না পেলে পেশকার প্রকাশ্যে মামলার হাজিরার কাগজ ছুড়ে ফেলে দেন। এমনকি মামলার আদেশ ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে বাদী ও বিবাদী—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই সমপরিমাণ অর্থ আদায় করেন। পরে আদেশের পর এক পক্ষকে টাকা ফেরত দিয়ে অন্য পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া, স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা উত্তরার গোলাম মোর্শেদ নামের এক ভুক্তভোগী জমি সংক্রান্ত মামলায় (মামলা নং-৫৭৪/২৩) শুনানির রায় পক্ষে করে দিবেন বলে ৫০ হাজার টাকা নেয় জোবায়ের হোসেন। যখন মামলার রায় বিপক্ষে চলে যায় তখন ভুক্তভোগীর চাপে পড়ে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেয় জোবায়ের।
আরও জানা যায়, জুবায়েরের নিজ জেলা নোয়াখালী হলেও তিনি গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে জমি ক্রয় করেছেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে গাজীপুরের ঠিকানা ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গাজীপুর কোঠায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী অভিযোগ করেন, জোবায়ের হোসেন তাদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণ করেন এবং অযথা চাপ সৃষ্টি করেন, যা অফিসের কর্মপরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, যেসব মামলা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেসব মামলায় এক পক্ষের গোপন নথিপত্র অন্য পক্ষকে সরবরাহ করে দেন এবং বিচারককে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালান—যা বিচার ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, বিগত সময়ে একটি প্রভাবশালী হাউজিং প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জন করেন তিনি। সে সময় নিজেকে ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জোবায়ের হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।