দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর গাজীপুরে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই জনসভাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর ও জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
দলীয় সূত্র জানায়, এই জনসভা বিএনপির জন্য শুধু একটি কর্মসূচি নয়; বরং দীর্ঘ সময় পর জনসমক্ষে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার একটি বড় উপলক্ষ। ব্যানার–ফেস্টুন, মাইকিং ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সবশেষ ২০০৫ সালের মার্চে গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। ওই সময় তৎকালীন মহাসচিব মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় গাজীপুরে কোনো জনসভায় সরাসরি ভাষণ দেননি বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
দলীয় নেতারা মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি জনসভা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সে ঘটনার এক যুগ পর তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তারেক রহমানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) ও র্যাব যৌথভাবে পুরো এলাকাকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রেখেছে। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নারী সমর্থকদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শন করেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. তাহেরুল হক চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আয়োজকদের ধারণা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন,
“এই জনসভা গাজীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
দলীয় সূত্র আরও জানায়, গাজীপুরের আসনগুলোতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এই জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্ত অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরতে চায়।
মাঠে অবস্থান করে প্রস্তুতি তদারকি করছেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনিসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা।