ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ায় গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৮ জন প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় গাজীপুরের পাঁচটি আসনের নির্বাচনী চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এসব প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন।
জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, জোটের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল ও আসন সমঝোতার বাধ্যবাধকতার কারণেই গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর-২ আসনে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া আসনে ১০ দলীয় জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজীপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হোসেন আলী এবং গাজীপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এ সিদ্ধান্তকে জোট রাজনীতির বাস্তবতা ও আপসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
একই দিনে গাজীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন সরকারও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও পাঁচজন প্রার্থী শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ভোটের লড়াই আরও কেন্দ্রীভূত ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ৫০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৮ জন সরে দাঁড়ানোয় এখন মাত্র ৪২ জন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
আগামীকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন। ইতোমধ্যে দল ও জোটগুলো মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।