ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে যখন দেশজুড়ে শঙ্কা, তখন স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন—নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সামান্য পক্ষপাত, অনৈতিকতা বা দায়িত্বে শৈথিল্যও বরদাস্ত করা হবে না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) গাজীপুরের শফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে দায়িত্ব পালন করবেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন ১৩ জন করে সদস্য—যাদের মধ্যে অস্ত্রধারী ও অস্ত্রবিহীন সদস্যদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্ত্রধারী সদস্যদের একজন সার্বক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে অবস্থান করবেন, যাতে ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
নির্বাচনে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা প্রভাব বিস্তারের যেকোনো চেষ্টা দমনে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মাঠে নামানো হচ্ছে, যেখানে থাকবেন ১১ হাজার ৯১০ জন প্রশিক্ষিত সদস্য। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাষ্ট্রের রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল নয়, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাই রাষ্ট্রের কাছে মুখ্য। কোনো সদস্য যদি ব্যক্তিগত লাভ, রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেন, তবে তা শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়—রাষ্ট্রবিরোধী আচরণ হিসেবে গণ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নতুন প্রশিক্ষণ কাঠামোর আওতায় ৫৬ হাজার কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারের বেশি আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিতদের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ না থাকে।
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থ লুট নয়—এটি নির্বাচন, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে। এ কারণে নবীন আনসার সদস্যদের সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে চার ক্যাটাগরিতে চারজন সেরা চৌকস প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, আনসারের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৩৭ জন প্রশিক্ষণার্থী একসঙ্গে পাসিং আউট সম্পন্ন করেছেন, যা নির্বাচনি নিরাপত্তা বাস্তবায়নে বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতার স্পষ্ট বার্তা দেয়।