বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তাঁর স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
এর আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ২টার দিকে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছেন। সে সময় তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে তাঁকে কেবিন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
৮০ বছর বয়সি এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনির জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিসসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে এবং মা তৈয়বা বেগমের জন্ম পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ীতে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় খালেদা খানম। পারিবারিকভাবে তিনি ‘পুতুল’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি সেন্ট যোসেফ কনভেন্টে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
শৈশব থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনে অভ্যস্ত খালেদা জিয়া ফুলের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। ব্যক্তিজীবনের মতো রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও প্রভাবশালী এক নেত্রী।
তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।