দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন ও এর পেছনের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তাদের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই নির্বাচন ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাংবাদিকসহ সাধারণ কাউকে নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার মা ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ইটিআই ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তিনি ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করে বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে ভবন ত্যাগ করেন।
এরপর দুপুর ১টার দিকে ইটিআই ভবনে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, তারেক রহমান পূর্বেই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করেছিলেন। আজকে তিনি আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদান করে ভোটার নিবন্ধনের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করেন।
ভোটার নিবন্ধন শেষে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ইটিআই ভবন ত্যাগ করেন তারেক রহমান। এ সময় রাস্তায় অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সিনিয়র সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এনআইডির মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুর কবীর জানান, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ করা হয়। তথ্য সার্ভারে যাচাই শেষে মিল না পাওয়া গেলে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি নম্বর জেনারেট হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে অথবা মোবাইলে প্রাপ্ত মেসেজের মাধ্যমে অনলাইনে এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবেন।
দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমান ও তার কন্যার ভোটার নিবন্ধন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।